MD SIAM MIA
আলহামদুলিল্লাহ খুবই ভালো ম্যাগাজিন।
বর্তমান যুগে সবচেয়ে জনপ্রিয় যে যন্ত্রটি তার নাম কম্পিউটার। কিন্তু মজার ব্যাপার হল কম্পিউটার কিন্তু তার নিজের বুদ্ধিতে কিছুই করতে পারে না। তাকে যা শেখানো হয় সে তাই করতে পারে এর বেশি কিছু নয়। এখন তোমার মনে হয়ত ঘুরপাক খাচ্ছে , কিভাবে কম্পউটারকে শিখাব? এর উত্তর যা হবে তাকেই বলা চলে সাধারণ ভাষায় কম্পিউটার প্রোগ্রামিং (computer programming)। বর্তমানে প্রোগ্রামিং শুধু যে কম্পিউটারে জন্যই করা হচ্ছে বাপ্যারটা কিন্তু ঠিক তা নয়। প্রোগ্রামিং মোবাইল ফোনের জন্যও হতে পারে। হতে পারে তোমার হাতে চলতে থাকা ছোট্ট ঘড়িটার জন্যও। আর সেই প্রোগ্রামিং যখন কম্পিউটারে জন্য করা হয় তখন তাকে বলা হয় কম্পিউটার প্রোগ্রামিং। অবাক করার বিষয় হল, আমরা চাইলে প্রোগ্রামিং এর সাহায্যে ৫ + ২ = ১০ (!) বানিয়েও কম্পিউটারকে দিলে সে তাই দিবে। কিন্তু আমরা নিশ্চই এমন অবাস্তব প্রোগ্রাম বানাবো না।
কম্পিউটার মানে গণনা যন্ত্র। যদিও বর্তমানে এর সাহায্যে অনেক কিছুই করা যায়। যেমন আমরা চাইলে এর সাহায্যে গান শুনতে পারি, মুভি দেখতে পারি ইত্যাদি। আসলে আমরা কম্পিউটারের সাহায্যে যা কিছুই করি না কেন এটি কিন্তু সব কিছুকেই শুন্য (০) ও এক (১) এর সম্বনয় হিসেবেই চিনে। অর্থাৎ এটি শুন্য (০) ও এক (১) ছাড়া কিছুই বুঝে না। যাকে আমরা বলি দ্বিমিক সংখ্যা। কম্পিউটার এতোটা জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হল, এর সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের সফ্টওয়্যার তৈরী করে আবার এরই সাহায্যে ব্যবহার করে অনেক জটিল ও সময় সাপেক্ষ্য কাজ করে ফেলা যায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। সফ্টওয়্যার কিন্তু বানানো হয় প্রোগ্রামিং করেই। তোমাকে যদি এখন বলা হয় ১ থেকে ১ লক্ষের মধ্যে মৌলিক সংখ্যাগুলো কি কি? তুমি হয়ত পারবে কিন্তু ততক্ষণে হয়ত তোমার বন্ধু ব্যাপন ম্যাগাজিনটি পড়া শেষ করে এক বেলা ঘুম দিয়ে আসতে পারবে! কিন্তু এই কাজটিই কম্পিউটার করে দিবে চোখের পলকেই। আর এটি সম্ভব হয়েছে প্রোগ্রামিং এর কল্যাণেই। সেই জন্যই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এ আমাদের এত বেশি আগ্রহ।
কে না চায় কম্পিউটারকে তার নিজের মত কথা শোনাতে। এখন হয়ত তোমার মনে প্রশ্ন আসবে, কম্পিউটার কি আমার ভাষা বুঝবে? হ্যাঁ বুঝবে কিন্তু আমরা যে ভাষায় কথা বলি তা অবশ্য বুঝবে না। কারণ আমরা জানলাম যে, কম্পিউটার শুন্য (০) ও এক (১) ছাড়া কিছুই বুঝে না। একটা সময় ছিল যখন শুধু ০ আর ১ লিখেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং লিখতে হত। কারণ কম্পিউটারকে কাজ করাতে চাইলে তো তার ভাষায় কথা বলতে হবে। ০ ও ১ দিয়ে যে প্রোগ্রামিং করা হয় তাকে বলে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ (Machine Language)। তারপর আসল অ্যাসেম্বলি ল্যাঙ্গুয়েজ যা কিছুটা সহজ ও অধিক বোধগম্য। অ্যাসেম্বলি ল্যাঙ্গুয়েজকে কম্পিউটারের ভাষায় রূপান্তরের জন্য তৈরী করা হল অ্যাসেম্বলার (এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম)। প্রয়োজন যেহেতু আবিষ্কারের জননী, তাই কাজকে আরো সহজ করতে তৈরী হলো বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। যেমন- বেসিক (Basic), ফোরট্রান (Fortran), প্যাসকেল (Pascal), সি (C)। মানুষের আবিষ্কারের শেষ নেই, তৈরী হতে থাকল নতুন নতুন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, যার মধ্যে সি প্লাস প্লাস (C++), জাভা (Java), ভিজ্যুয়াল বেসিক (Visual Basic), সি শার্প (C#), পাইথন (Python), পিএইচপি (PHP), রুবি (Ruby) অন্যতম। শুধু এখানেই শেষ নয়, এখনো তৈরী হচ্ছে নতুন নতুন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। আর এসব ল্যাঙ্গুয়েজের জন্য আছে আলাদা আলাদা কম্পাইলার (এক ধরনের বিশেষ সফ্টওয়্যার) যা ঐ সব ভাষায় লিখিত প্রোগ্রামকে কম্পিউটারের ভাষায় রূপান্তরের জন্য তৈরী করা হয়েছে। তাই এখন আর আমাদেরকে রূপান্তরের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হয় না। শুধু যে কোন প্রোগামিং ল্যাঙ্গুয়েজে প্রোগ্রাম লিখে দিলেই চলে। আমরা সাধারণ কথায় বলতে পারি, যে ল্যাঙ্গুয়েজের সাহায্যে আমাদের দেয়া নির্দেশনা ও কম্পিউটারের মধ্যে একটি সমন্বয় তৈরী করা যায় এবং যার সাহায্যে প্রোগ্রাম বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরী করা যায় তাকেই বলা হয় প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ।
তোমাকে আপাতত সবগুলো প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ না শিখলেও চলবে। এখন যে কোন একটি ভালভাবে শিখে নিলেই হবে। তবে সি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখাটাই অধিক যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি। কারণ সি ল্যাঙ্গুয়েজটা ভালমত রপ্ত করতে পারলে অন্যগুলো তুমি যে কোন সময় চাইলেই শিখে নিতে পারবে। তাছাড়া সি ল্যাঙ্গুয়েজ এর নিয়ম-কানুন অনেক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের সাথে মিল আছে। এমনকি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় যে সকল প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয় সেগুলোর মধ্যে সি অন্যতম। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহনের মাধ্যমে তুমি নিজেকে এক জন দক্ষ প্রোগ্রামার হিসেবে তৈরী করার সুযোগ পাবে। আর সেই সাথে পরিচিত হতে পারবে পৃথিবী বিখ্যাত প্রোগ্রামারদের সাথে। এমনকি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ভাল করতে পারলে চাকুরি পেয়ে যেতে পার গুগল (Google), মাইক্রোসফট (Microsoft), ফেসইবুক (Facebook), অ্যাপল (Apple) প্রভৃতি পৃথিবী বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোতে। চিন্তার কারণ নেই, নির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে যাওয়ার পর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশা-আল্লাহ।

আলহামদুলিল্লাহ খুবই ভালো ম্যাগাজিন।
৫৫৫০ বছর আগে মানুষ বায়ুশক্তিকে পালতোলা নৌকায় ব্যবহার করা শুরু করে। এর কিছুদিন পর কৃষি উন্নয়নের সাথে...
কাগজের প্লেন তো উড়িয়েছো? খাতার কাগজ ছিড়ে আম্মুর বকা না খেতে চাইলেও অন্তত দুষ্টু বন্ধুটাকে প্লেন উড়াত...
তোমরা যারা ইন্টারনেটের দুনিয়ায় নিয়মিত যাতায়াত করো তারা নিশ্চয়ই ভিপিএন শব্দটি শুনেছো। তোমাদের মধ্যে অ...
প্রোগ্রামিং শেখাটা যেমন মজার তেমনি প্রয়োজন লেগে থাকার মতো ধৈর্য ও মন-মানসিকতা। তুমি যে কোন প্রোগ্রাম...