৫০৳
প্রিয় ব্যাপনবন্ধুরা
তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছ, সময়টা কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছে। যে পৃথিবী একসময় ছিল ধীর, গাছেদের পাতার মতো নড়াচড়া করত মৌনতায়, সে পৃথিবী এখন মুহূর্তে মুহূর্তে বদলে যাচ্ছে।
ডিজিটাল ডিভাইসের নোটিফিকেশনের মতো। আমরা যেখানেই তাকাই, দেখি প্রযুক্তির ঢেউ, দেখার ধরন পাল্টে দেওয়া অ্যালগরিদম, আর বাস্তবকে মুছে দেওয়ার মতো ভার্চুয়াল এক জগৎ। ঠিক এই সময়েই, এমন এক সমসাময়িক উত্তাল প্রেক্ষাপটে, আমরা তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছি ব্যাপন-এর জুলাই-আগস্ট সংখ্যা, যেখানে প্রযুক্তির রহস্য, বিজ্ঞানের গভীরতা, আর কল্পনার সীমানা একসঙ্গে এসে মিলেছে, যেন এক বুনো ঝর্ণার মতো।
এই সংখ্যার শুরুতেই রয়েছে 'সাইবার সিকিউরিটির রোমাঞ্চকর জগৎ', যেখানে ইন্টারনেটের অদৃশ্য ভূগোলের ভেতর দিয়ে তুমি হেঁটে যেতে পারবে হ্যাকার আর হিরোদের ছায়ার গল্পে। এরপর 'গাছেদের সমাজ'। এ লেখায় আবিষ্কার করবে গাছেরা কীভাবে কথা বলে, যোগাযোগ করে, এমনকি একে অপরকে সাহায্য করে! শুধু মানুষ নয়, প্রকৃতি নিজেও এক বিশাল সমাজ। বিজ্ঞান যেমন বাস্তব, তেমনি কল্পনার সাথেও তার নিবিড় সম্পর্ক এ কথা মনে করিয়ে দেবে 'নেক্সাস' বা 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যত প্যারাডক্স'-এর মতো লেখাগুলো। আর যারা ইতিহাস ভালোবাসো, তাদের জন্য রয়েছে 'বাঙালি মহাবিজ্ঞানী: অমলকুমার রায় চৌধুরী'-এর জীবনের বিস্ময়কর অধ্যায়। এ সংখ্যা আরও অনন্য হয়ে উঠেছে 'বিজ্ঞান বনাম ছদ্মবিজ্ঞান'-এর মতো গভীরতাপূর্ণ ও বিতর্ক উস্কে দেওয়া লেখার মাধ্যমে, যেখানে তোমরা আলাদা করতে পারবে আধুনিক জামানার আলো ও ছায়ার সীমারেখা।
আমরা চাই ব্যাপন শুধু পড়ার জন্য না, চিন্তার একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠুক। একটা প্রশ্ন, একটা জিজ্ঞাসা, এমনকি একটা সন্দেহও যদি জন্ম নেয় কোনো লেখায়, তাহলেই আমাদের কাজ সার্থক। আজকের তরুণ পাঠকরাই আগামী দিনের বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, এমনকি কল্পনাবিলাসী চিত্রকর। তোমাদের ভেতরেই হয়তো কেউ গড়ে তুলবে নতুন কোনো ধারণা, যা বদলে দেবে পুরো পৃথিবীর মুখ। ব্যাপন তাই শুধু একটা বিজ্ঞান ম্যাগাজিন নয়, বরং চাই তা ভাবনার এক খোলা জানালা হয়ে উঠুক। এখানে আমরা একসাথে খুঁজি, শিখি, আর কল্পনায় উড়ে যাই অচিন দুনিয়ায়। চলো, তুমি-আমি মিলে এই জানালাটা আরেকটু বড় করি। জানার সাহসে, ভাবনার আনন্দে আর জগতকে নতুন চোখে দেখার ইচ্ছায়।
বিজ্ঞানের সৌরভ তব ব্যাপিত হোক।